কী দাবি জানালেন আইসিটি কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টররা? বিধায়ক কী আশ্বাস দিলেন? কেন স্থায়ীকরণের দাবি? হুগলি, ১৬ জুলাই: দীর্ঘদিনের স্থায়ীকরণের দাবি এবং কর্মসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশায় West Bengal ICT School Co-Ordinator Welfare Association-এর হুগলি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পাণ্ডুয়া ব্লকের প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার পাণ্ডুয়া(Pandua) বিধানসভার বিধায়ক তুষার কুমার মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তাঁরা আইসিটি কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টরদের বর্তমান পরিস্থিতি, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত আইসিটি কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টররা বছরের পর বছর শুধু কম্পিউটার শিক্ষাই দিচ্ছেন না, সরকারের বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা, ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্যভিত্তিক কাজ এবং ডিজিটাল বাংলার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরে তাঁদের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও কর্মজীবনের নিরাপত্তা এখনও অধরাই রয়ে গেছে।তাঁদের দাবি, আইসিটি প্রকল্পের প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে কর্মরত প্রায় ৫,৩০০ কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টর বহু বছর ধরে পূর্ণ স্থায়ীকরণের আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এতদিনেও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের আশা, বর্তমান রাজ্য সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও আইসিটি কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টরদের স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।প্রতিনিধিরা আরও জানান, বর্তমানে তাঁদের জন্য কোনও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নেই, নেই চাকরিকালীন মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার মতো সামাজিক নিরাপত্তাও। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই পরিস্থিতিতে পরিবার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা এবং চিকিৎসার খরচ বহন করা অনেকের পক্ষেই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তাঁদের দাবি, দ্রুত এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বিধায়ক তুষার কুমার মজুমদার মহাশয় তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। তিনি জানান, আইসিটি কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টরদের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি সরকারের নজরে আনার জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি বিষয়টি যাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিধায়ককে সময় দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। প্রতিনিধিদের বিশ্বাস, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তথ্যসূত্র: পাণ্ডুয়া ব্লক সভাপতি (ওয়েস্ট বেঙ্গল আইসিটি স্কুল কো – অর্ডিনেটর অ্যাসোসিয়েশন) Post navigation বনদপ্তরের হাতে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ তুলে দিলেন পান্ডুয়া পুলিশ, এলাকাবাসী গড়লেন সচেতনতার নজির